আখতার হোসেন

গোলামির নয়, আজাদির বাংলাদেশ গড়তে চাই: আখতার হোসেন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেন বলেছেন, ‘দেশে এখন দুটি পক্ষ। এক পক্ষ বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে চায়। আরেক পক্ষ গোলামির বাংলাদেশ বানাতে চায়। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়, আমরা কোন পক্ষে থাকব। আমরা গোলামির বাংলাদেশ নয়, আজাদির বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

আজ শনিবার বেলা দুইটার দিকে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের ঘগোয়া সর্দারপাড়া এলাকায় নির্বাচনী উঠান বৈঠকে এ কথা বলেন আখতার হোসেন।

এর আগে শনিবার বেলা ১১টা থেকে তাম্বুলপুর ইউনিয়নের ১, ৬ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও সাহেব বাজার এলাকায় পথসভা করেন আখতার হোসেন।

ঘগোয়া সর্দারপাড়া এলাকায় উঠান বৈঠকে নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট চেয়ে আখতার হোসেন বলেন, কাউনিয়া ও পীরগাছার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও উন্নয়নবঞ্চিত। বাজেটে রংপুর বিভাগের জন্য যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার সামান্য অংশ এই এলাকায় আসে।

সরকারি দপ্তর ও পুলিশি সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, ‘গ্রামের সাধারণ মানুষ সরকারি অফিসে গেলে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়, সমাধান মেলে না। মানুষ বিপদে পড়ে থানায় যায় আশ্রয়ের জন্য, কিন্তু সেখানে বিপদ আরও বেড়ে যায়। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও মেধার বদলে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি দেখা যায়। আমরা এই ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। পুলিশ বা প্রশাসন কোনো দলের গোলামি করবে না, তারা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে।’

নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমাতে একটি বিশেষ ‘জনসেবা সেন্টার’ চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়ে অনেকে দালালের খপ্পরে পড়েন ও হয়রানির শিকার হন। আমাদের জনসেবা সেন্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাজ করবেন। তাঁরা ঢাকায় যাওয়া রোগীদের ডাক্তার দেখানো, টিকিট কাটা ও হাসপাতালে ভর্তির বিষয়ে সহায়তা করবেন। ২০০ টাকার শাড়ি বা লুঙ্গি বিতরণের চেয়ে এই সেবা মানুষের অনেক বড় উপকারে আসবে।’

কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষকদের সুবিধার্থে হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, ফসলের মৌসুমে দাম কম থাকে, আবার পরে দাম বেড়ে যায়। এতে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হন। হিমাগার থাকলে কৃষকেরা ফসল সংরক্ষণ করতে পারবেন এবং ন্যায্যমূল্য পাবেন।

নির্বাচনের পর জনপ্রতিনিধিদের এলাকায় না পাওয়ার সংস্কৃতির সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, ‘ভোটের আগে এমপিরা বাড়ির উঠান পর্যন্ত আসেন, কিন্তু পরে আর তাঁদের পাওয়া যায় না। আমি নির্বাচিত হলে প্রতি তিন মাস পরপর কাউনিয়া ও পীরগাছায় মতবিনিময় সভার আয়োজন করব। সেখানে জনগণের অভিযোগ, পরামর্শ ও সমালোচনা শুনে সমস্যার সমাধান করা হবে। আমরা জবাবদিহির রাজনীতি চালু করতে চাই।

সোর্সঃ প্রথম আলো