আখতার হোসেন

আখতার হোসেন

সদস্য সচিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি(NCP)

আখতার হোসেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যক্তিগত অনুমোদন এবং সাধারণ ভোটার ছিলেন। তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির শান্তি, যেখান থেকে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও মাফুলজ আলম তৈরি করেছিলেন।

এনসিপি

সদস্য সচিব

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আইন বিভাগ

১১ দলীয় জোট

রংপুর-৪

ব্যক্তিগত তথ্য

পূর্ণ নাম

: আখতার হোসেন

জন্ম তারিখ

: ৭ জুলাই ১৯৯৮

জন্মস্থান

: রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিষয়

: আইন

পেশা

: রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক

রাজনৈতিক দল

: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)

বর্তমান পদ

: সদস্য সচিব, এনসিপি

রাজনৈতিক দর্শন ও অঙ্গীকার

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তরুন প্রজন্মের যে কয়েকজন কৃতিত্বের সাক্ষর রেখে চলেছেন তাদের মাঝে এক উজ্জ্বল নাম আখতার হোসেন। প্রশ্নফাঁস বিরোধী অনশন থেকে শুরু করে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন, দেশকে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখা শুরু করা থেকে দেশ বিনির্মানে অগ্রগামী ভূমিকা রাখা সব জায়গায় আখতার হোসেনের সগৌরব পদচারণা।

আখতার হোসেন ইতিহাস সমৃদ্ধ রংপুর জেলার কাওনিয়া- পীরগাছা অন্তর্বর্তী ভায়ারহাটে নব্বই দশকের শেষার্ধে জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকের পাঠ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে রংপুর শহরের সাতগড়া মাদ্রাসায় আলিমের পাঠ সম্পন্ন করে ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং কৃতিত্বের সাথে এলএলবি এবং এলএলএম পাশ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তৎকালীন শাসকের শোসন এবং চারপাশের অনিয়ম, অন্যায়, অত্যাচার আখতার হোসেনের বিবেককে নাড়িয়ে তোলে।১৮ এর কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন আখতার হোসেন। যার ফলশ্রুতিতে ছাত্রলীগের নেতারা তাকে পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেয়। পরবর্তীতে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন আখতার হোসেন। এরই মাঝে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে। তারই প্রতিবাদে ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো কোনো শিক্ষার্থী হিসেবে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে একক অনশনে বসেন তিনি। তার তিনদিনের অনশনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে পরীক্ষা বাতিল করে এবং পুনরায় পরীক্ষার আয়োজন করে। ২০১৯ সালের মার্চে প্রায় তিন দশকের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেখানে সমাজসেবা সম্পাদক পদে বিরোধী প্যানেল থেকেও বিপুল ভোটে জয়ী হন আখতার হোসেন। সমাজসেবা সম্পাদক থাকাকালীন সময় ক্যাম্পাসের ছেলে-মেয়েদের জন্য বেশকিছু কল্যাণকর কর্মসূচি গ্রহণ করেন তিনি। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে হওয়া জরীপে সর্বোচ্চ জনপ্রিয় ডাকসু নেতা হিসেবে স্বীকৃত হন আখতার। ডাকসুর মেয়াদ শেষে আখতার তার বরাদ্দকৃত অর্থের পুর্নাঙ্গ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করে প্রশংসিত হন।

ছাত্র হত্যার ইতিহাসের এক অন্যতম কলঙ্কিত অধ্যায় হলো আবরার ফাহাদের হত্যাকান্ড। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের পেটুয়া বাহিনী। সে সময় তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেন আখতার এবং তার সহযোদ্ধারা । আবরার ফাহাদের গায়েবানা জানাজার ইমামতিও করেন আখতার। পরবর্তীতে আবরার ফাহাদের শাহাদাতের এক বছর পর তার স্মরণে ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর পলাশীর মোড়ে আগ্রাসন বিরোধী আট স্তম্ভ তৈরিতে নেতৃত্ব প্রদান করেন আখতার। এই আগ্রাসন বিরোধী আট স্তম্ভকে বাংলাদেশের মানুষ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতীক হিসাবে গ্রহণ করে।

আগ্রাসনের বিরোধীতার প্রেক্ষাপটে মোদি বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করায় ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল তাকে প্রথমবারের মতো অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে দফায় দীর্ঘ ৭৮ দিন অকথ্য নির্যাতন সহ্য করার পর কারামুক্তি পান আখতার। ২০২২ সালের ৭ অক্টোবর শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরনসভায় ছাত্রলীগ নৃশংস হামলা করে এবং সেখান থেকে আখতার কে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। ৩২ দিন জুলুম, নির্যাতনের পর তাকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে যুগান্তকারী একটা পদক্ষেপ ছিল গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির প্রতিষ্ঠা। ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, নুসরাত তাবাসসুম, আব্দুল কাদের, আবু বাকের মজুমদার, আব্দুল হান্নান মাসউদ সহ সমমনা নেতৃত্বদের নিয়ে আখতার গড়ে তুলেন গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি। সেদিনও ছাত্রলীগের নৃশংস হামলার স্বীকার হন আখতার সহ ছাত্রশক্তির অন্যান্য নেতারা।

আয়নাঘরের গুম বিরোধী আন্দোলন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার আন্দোলন সহ আরও কতশত আন্দোলনে যে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তার ইয়ত্বা নেই। এমনকি ২০২৪ সালের ডামী নির্বাচনের সময়ে হাসিনার এই প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রহসনের নির্বাচন বর্জনের ডাক দেন আখতার হোসেন, গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি সহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো ।


সময়ের সাথে সাথে ২০২৪ সালের জুন মাসে শুরু হয় ছাত্র- জনতার কোটা বিরোধী আন্দোলন। সে আন্দোলনে নেপথ্যে থেকে আখতার নিত্যদিনের পরিকল্পনায় অংশ নিয়ে আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। এরই মাঝে গোয়েন্দা নজরদারিতে পড়ে যান আখতার। পরবর্তীতে ১৬ জুলাই ২০২৪ রংপুরে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরন করেন বীর আবু সাঈদ। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শহীদ মিনারে গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি হাতে নেয় ছাত্ররা, সেই জানাজার ইমামতি করতে আসেন আখতার। সেখানে আসলে পুলিশ তাকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে এবং তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। স্বৈরাচার সরকারের আন্দোলন দমনের জন্য গ্রেফতার শুরু হয় আখতার হোসেনের গ্রেফতার থেকেই। কিন্তু তার এই গ্রেফতার আন্দোলনের আগুনে ঘি এর মতো কাজ করে৷ প্রিজন ভ্যানের ভেতর থেকেই মানুষকে একত্রিত হয়ে মুক্তির লড়াই চালানোর আহ্বান জানান আখতার।

মাঝে কেটে যায় দীর্ঘ এক পথ। ৫ আগষ্ট ২০২৪ স্বৈরাচার হাসিনার পালিয়ে যাবার মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হলে ছাত্র জনতার দাবির মুখে ৫ আগষ্ট মধ্যরাতে আখতার হোসেন মুক্ত হন।

শুরু হয় এক নতুন পথচলার। নারকীয় হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে এবং মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের দাবিতে কাজ শুরু করেন আখতার হোসেন। শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে পূন্যভূমি রংপুর থেকে যাত্রা শুরু হয় ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। সে সময় থেকে নিরলসভাবে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানের কাজ করে যাচ্ছেন আখতার হোসেন। দিন কি রাত, সকাল কি মাঝরাত সবকিছুকে উপেক্ষা করে দেশের মানুষের কল্যাণকে একমাত্র ব্রত হিসেবে নিয়েছেন আখতার হোসেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন আখতার হোসেন।

আখতার হোসেনদের হাতেই আগামীর বাংলাদেশ। তারা এগিয়ে গেলে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। এগিয়ে যাক আখতার হোসেন, এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।

কেন আখতার হোসেন?

আন্দোলনের নেতৃত্ব

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় নেতৃত্ব প্রদান করে জনগণের আস্থা অর্জন

জাতীয় নাগরিক কমিটি

জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে নাগরিক অধিকার আদায়ে কাজ করছেন

সৎ রাজনীতি

লুটপাট ও সহিংসতামুক্ত স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী

তরুণ নেতৃত্ব

নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে পরিবর্তনের রাজনীতিতে নিবেদিত

জীবন ও কর্ম

  • জন্ম
  • ৭ জুলাই ১৯৯৮

    রংপুর জেলায় জন্মগ্রহণ

  • শিক্ষা
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন

  • আন্দোলন
  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪

    শেখ হাসিনা সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন

  • সংগঠন
  • জাতীয় নাগরিক কমিটি

    জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ

  • রাজনীতি
  • জাতীয় নাগরিক পার্টি

    এনসিপি'র সদস্য সচিব হিসেবে দল গঠনে নেতৃত্বদান

  • নির্বাচন
  • রংপুর-৪ আসন

    ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪

গণআন্দোলনে নেতৃত্ব

২০২৪ সালের জুলাই মাসে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, সেখানে আখতার হোসেন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি জনগণের আস্থা অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আপনার এলাকা নিয়ে মতামত ও প্রত্যাশা

কাউনিয়া, পীরগাছা ও হারাগাছের মতামত, পরামর্শ, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং উন্নয়নসংক্রান্ত যেকোনো প্রস্তাব জানান।